তেহরান: বিশ্বজুড়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক স্তর থেকে এলো বড় ঘোষণা। ১২ অক্টোবরের মধ্যেই ইসরাইলে ইরানের সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জনকে যেন আরো স্পষ্ট করে, দেশটির খাতাম আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহী জানিয়েছেন যে শত্রুর মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অতীতের চেয়ে ইরান এখন সামরিকভাবে বেশি শক্তিশালী
মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহী সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শত্রুর মোকাবিলায় অনেক বেশি প্রস্তুত ও শক্তিশালী।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ইসরাইল কর্তৃক ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান সামরিক শক্তি "আরো সংগঠিত" এবং "আরো কার্যকর" হয়ে উঠেছে। তার মতে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি কেবল অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; এর মূল ভিত্তি হলো ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস।
আব্দুল্লাহী বলেন, “আমাদের জনগণ ও সেনারা একসঙ্গে লড়েছে, যেভাবে লড়েছিল আট বছরের ইরান-ইরাকের বিধ্বংসী যুদ্ধে। সেই পুরনো স্মৃতি যেন আবার ফিরে এসেছে। তখনও আক্রমণ হয়েছিল, কিন্তু পতন হয়নি, আজও তাই।” এই মন্তব্য ইরানের জাতীয় সংহতি এবং অতীত যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে বর্তমান প্রস্তুতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে।
চাপের মুখে বিপরীত ধারার প্রতিরোধ: অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি
ইরানের সামরিক এই কর্মকর্তা মনে করেন, যখনই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল বিভিন্ন প্ররোচনায় ইরানকে কোণঠাসা করতে চায়, ঠিক তখনই দেশটি নিজের ভেতর নতুন শক্তি খুঁজে পায়। এটিকে তিনি এক বিপরীত ধারার প্রতিরোধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি বহিরাগত চাপ দেশকে আরো দৃঢ় ও সংহত করে তোলে।
মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহীর ভাষায়, “আমাদের সেনারা এখন আরো সজ্জিত, আরো সংগঠিত এবং আগের চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।” এই 'সাফল্য' কেবল সামরিক বিজয় নয়, বরং কৌশলগত ভারসাম্যের দিক থেকেও ইরানকে এক নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত ইরান এখন তার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসাব করে ফেলছে।
তিনি যখন জোর দিয়ে বলেন ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই’, তখন এই বার্তা কেবল একটি সামরিক আশ্বাস থাকে না; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অদম্য মনোভাব এবং পূর্ণ প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
ঐক্য ও জাতীয় বিশ্বাসই প্রকৃত শক্তি
আব্দুল্লাহীর বক্তব্যের মূল সুর হলো—ইরানের প্রকৃত শক্তি কোনো সামরিক জোট বা বাহ্যিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং, মিডিয়া ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ যখন দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করে, ঠিক তখনই জনগণ ও সেনাবাহিনী এক সুরে বলে ওঠে: “আমরা এক”।
এই অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং জাতীয় বিশ্বাসই ইরানের সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে, দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা কেবল অস্ত্রের ঝলকে নয়, এক জাতির দৃঢ় মনোভাবের ওপর নির্ভরশীল
Tags
আন্তজার্তিক
