উত্তরাঞ্চলে দিনের বেলায় উষ্ণতা, রাতে শীতের ছোঁয়া: তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা।

 উত্তরাঞ্চলে দিনের বেলায় উষ্ণতা, রাতে শীতের ছোঁয়া: তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা।

প্রকাশের তারিখ: ২১ অক্টোবর ২০২৫






বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর বিভাগে, সাম্প্রতিক আবহাওয়ায় এক অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় অসহনীয় গরম থাকলেও মধ্যরাত থেকে ভোরের দিকে অনুভূত হচ্ছে হালকা শীত।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগের প্রকোপ:

আবহাওয়া পরিবর্তনের এই আকস্মিক তারতম্যের কারণে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেড়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ৫৫ জন শিশু ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতা নিয়ে তাঁর কাছে আসছে। অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের বিরূপ আবহাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফ্যান চালানোর পর ভোরে কম্বল বা চাদর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণ ও বিশ্লেষণ:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুমণ্ডলের তাপঘনত্বের বৃদ্ধি এবং অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতই এই ধরনের অস্বাভাবিক আবহাওয়ার মূল কারণ।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এই অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 * সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বর্তমানে বেড়ে ২৪-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।

 * সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১-৩২ ডিগ্রি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হচ্ছে।

এছাড়া, এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধিকে আবহাওয়াবিদরা ‘অসময়ের বৃষ্টি’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কৃষি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব:

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের স্থলভাগে তাপপ্রবাহের ঘনত্ব বাড়ছে, যার ফলস্বরূপ খরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং শীতকালের স্থায়িত্ব ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার কৃষক আহেদুল ইসলামের ভাষ্য, "এখন কার্তিক মাস, তবুও গরম কমছে না। গ্রীষ্ম নাকি শীতকাল, বুঝতেই পারছি না। ভোর রাতে হালকা শীত পড়লেও দিনের বেলায় অসহ্য গরম। ফ্যান চলে গভীর রাত পর্যন্ত।"

কৃষিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই তীব্র উষ্ণতার কারণে মাঠে থাকা শীতকালীন শাকসবজি, আমন ধান এবং আগাম আলু চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হতে পারে এবং উত্তরাঞ্চল দ্রুত মরুকরণের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

লক্ষ্য করুন: প্রতিবেদনটিতে মূল তথ্যের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি, কিন্তু বাক্য গঠন, শব্দচয়ন এবং উপস্থাপনার বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে এটি একটি নতুন এবং স্বতন্ত্র প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নবীনতর পূর্বতন