যমুনা রেলসেতুর পিলারে 'ফাটল' নয়, 'হেয়ার ক্র্যাক'—জানালেন কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যমুনা রেলসেতুর কিছু পিলারের নিচে ফাটলের ছবি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, এগুলো ফাটল নয়, বরং তীব্র উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট অতি ক্ষুদ্র 'হেয়ার ক্র্যাক' বা চুলাকৃতি ফাঁকা।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) যমুনা রেল সেতুর প্রজেক্ট ম্যানেজার, ফ্রান্সের প্রকৌশলী মার্ক হ্যাবি, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে সেতুর পিলারের নিচের দিকে কয়েকটি স্থানে চুল-আকৃতির ফাঁকা স্থান বা 'হেয়ার ক্র্যাক' দেখা গেছে। বর্তমানে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে আট থেকে দশটি পিলারে এই স্থানগুলোতে রেজিন বা আঠার প্রলেপ দিয়ে মেরামতের কাজ চলছে। এই মেরামত প্রক্রিয়ায় প্রথমে ফাঁকা স্থানগুলো ঘষে পরিষ্কার করা হচ্ছে।
প্রকৌশলী হ্যাবি জানান, এই হেয়ার ক্র্যাক নির্মাণকাজের ত্রুটি বা 'হানিকম্ব'-এর ফল নয়। তাঁর মতে, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে শূন্য দশমিক এক থেকে তিন মিলিমিটার পর্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের এই চুলাকৃতি ফাঁকাগুলির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের অতি ক্ষুদ্র ফাঁকাগুলি সেতুর কংক্রিটের অবকাঠামো বা স্থাপনার জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ফাটল সেতুর মূল কাঠামো বা ট্রেন চলাচলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। রেজিন মিশ্রণ ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমে সব হেয়ার ক্র্যাক মেরামত করা হবে। প্রকৌশলী হ্যাবির অভিযোগ, কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি এই ছোট ফাঁকা স্থানগুলির ছবি তুলে কৌশলে সেগুলিকে বড় করে দেখিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের দীর্ঘতম যমুনা রেলসেতুটি ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি যমুনা সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুতে রয়েছে ৫০টি পিলার এবং ৪৯টি স্প্যান। প্রায় ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেলসেতুটি ২০২৫ সালের ১৮ই মার্চ উদ্বোধন করা হয়।
