কৃষকের মাথায় হাত: রামগঞ্জের কৃষি জমিতে কচুরিপানার 'দখল', বোরো আবাদ অনিশ্চিত
লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ: দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কৃষি চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় কিছু মানুষের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে এখানকার অধিকাংশ কৃষিজমি বর্তমানে কচুরিপানার বিশাল স্তূপে সয়লাব। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব কচুরিপানা জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।
সঙ্কট যেভাবে তীব্র:
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ ও দখলদারিত্বের কারণেই পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হয়েছে। ফলস্বরূপ, বর্ষার জল সরে যেতে না পারায় কচুরিপানাগুলো জমিতে পচে একাকার হচ্ছে। কৃষকদের মতে, এই পরিস্থিতি প্রায় ছয় বছর ধরে চললেও, চলতি বোরো মৌসুমে তা চরম আকার ধারণ করেছে।
হাজার হাজার কৃষক এখন তাদের প্রিয় জমিতে বোরো ধান রোপণ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কৃষকের ভাষ্য: ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকে ইতিমধ্যে চাষাবাদ থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অনাবাদি জমির সংখ্যা বাড়ছে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের কাছে জরুরি দাবি:
সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
কৃষকদের জোর দাবি: "দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করা হোক এবং খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায়, এই অঞ্চলের কৃষি খাত অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবে।"
