৪৩ বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে প্রকৃত মালিক পেলেন সাড়ে ৩ একর জমি!
সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ৪৩ বছরের এক ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ের অবসান হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রায়পুর ইউনিয়নের ১০ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব পাটোয়ারী বাড়ির প্রকৃত মালিক বাহার পাটোয়ারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলো প্রায় সাড়ে ৩ একর (৩৫৬ শতাংশ) বেদখল জমি। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
জমির হস্তান্তর সম্পন্ন
সোমবার (১৩ অক্টোবর, ২০২৫) দিনব্যাপী ঢাকঢোল পিটিয়ে আদালতের প্রতিনিধি দল জমিতে লাল নিশানা গেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আদালতের প্রতিনিধিদল সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জমির পরিমাপ করে এবং প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেন।
যেভাবে শুরু হয় বিরোধ
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার কাজীর চর মৌজার ৩৫৬ শতাংশ জমি নিয়ে মৃত আবিদ, তসলিম, সিরাজ, মমতাজ ও বিল্লালদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরে ১৯৮৩ সালে আবিদ ও হানিফরা বাদী হয়ে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।
আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৪ সালে আদালত আবিদ ও হানিফদের জমির মালিক হিসেবে রায় দেন। প্রতিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করলেও সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের পর সোমবার প্রকৃত মালিকদের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্টের দিন শেষ
মামলার বাদী হানিফের ছেলে বাহার পাটোয়ারী ৪৩ বছর পর জমি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত। তিনি জানান, আদালতের সহায়তায় তারা সুবিচার পেয়েছেন। তবে এই দীর্ঘ বেদখল থাকার সময়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "এই জমির জন্য আমার দাদা আইয়ুব আলী ও জেঠা লনি মিয়াকে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের ছয়টি গরুও হত্যা করা হয়েছিল।"
জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় আদালতের পক্ষে জেলা জজ আদালতের নাজির হুমায়ুন কবির, সার্ভেয়ার আব্দুর রহিম এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে প্রকৃত মালিকের জমি ফিরে পাওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে এবং এটি সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
