লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়ে হ*ত্যা'কা'ণ্ড: আত্মীয় যুবক সোহেল আ'টক

 লক্ষ্মীপুর: মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডে তোলপাড়, আটক আত্মীয় যুবক সোহেল রানা।

শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫




​লক্ষ্মীপুর, ১১ অক্টোবর ২০২৫: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর চণ্ডীপুর গ্রামের খামারবাড়িতে মা ও কলেজপড়ুয়া মেয়েকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তাঁর মেয়ে তানহা আক্তার মীম (১৯)-এর আত্মীয় সোহেল রানা (৩২) নামের এক যুবককে আটক করেছে।

​ঘটনার বিবরণ:

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টার মধ্যে কোনো এক সময়ে রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের/পশ্চিম শ্রীরামপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জুলেখা বেগম ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী এবং তানহা আক্তার মীম রামগঞ্জ মডেল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার সময় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সোনাপুর বাজারে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা বসতঘরের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এ সময় ঘর থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। রাত ১০টার দিকে নিহত জুলেখার বড় ছেলে ফরহাদ হোসেন বাড়ি ফিরে নিচতলার দরজা খোলা এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো দেখতে পান। পরে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে মা-বোনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

​আটক ও মামলা:

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে পুলিশ নিহতদের আত্মীয় সোহেল রানাকে (৩২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। সোহেল রানা একই বাড়ির মোজাম্মেল হোসেন বাহারের ছেলে। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​এদিকে, হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতে রামগঞ্জ থানায় নিহত জুলেখার স্বামী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

​তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য:

​পুলিশ এটিকে অত্যন্ত নির্মম হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

​প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ।

​শুক্রবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

​এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​আটককৃত যুবক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে পুলিশের তদন্ত চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দিকে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ।

নবীনতর পূর্বতন