ভারতে চলন্ত বাসে আগুন, ২০ জনের মৃত্যু

রাজস্থানে বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ২০ জনের মৃত্যু, গুরুতর দগ্ধ ১৫।

বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫



মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজস্থানের জয়সলমীর-যোধপুর মহাসড়কে একটি চলন্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি বিকেল ৩টার দিকে জয়সলমীর থেকে যোধপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। জয়সলমীর-যোধপুর মহাসড়কে পৌঁছানোর পর বাসটির পেছন দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক দ্রুত রাস্তার পাশে বাসটি থামিয়ে দেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কাজে হাত লাগান এবং পরে দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শর্ট সার্কিটের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মাত্র পাঁচ দিন আগে কেনা হয়েছিল।

এই ঘটনায় চারজন নারী ও দুই শিশুসহ মোট পনেরো জন যাত্রী গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। তাদের প্রথমে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জয়সলমীরের জওহর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যোধপুরে স্থানান্তর করা হয়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জয়সলমীর জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন, বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় নিহত অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই শনাক্তকরণের কাজে সাহায্যের জন্য যোধপুর থেকে ডিএনএ এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

এদিকে, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা মঙ্গলবার গভীর রাতে জয়সলমীরে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

(উল্লেখ্য: হিমাচলে ধসের কবলে যাত্রীবাহী বাসে ১৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।)

নবীনতর পূর্বতন