সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে বিএনপির এক সমাবেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নূর কাসেম (৩৭) নামে এক কর্মী। তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে একটি টাকার মালার সঙ্গে নির্বাচনী খরচ বাবদ ১০ লাখ টাকার একটি চেক উপহার দেন। মঞ্চে কামরুজ্জামান কামরুল চেকটি হাতে নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দেখান।
এই ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপহারদাতা নূর কাসেমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪১২ টাকা।
নূর কাসেম (৩৫) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের মান্দিয়াতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক এবং ছোট পরিসরে ইট কেনাবেচার ব্যবসা করেন।
এদিকে, এই ঘটনার একদিন পর, রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার একতা বাজারে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের একটি কর্মসূচিতে কামরুজ্জামান কামরুল আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী নূর কাসেমের হাতে চেকটি ফিরিয়ে দেন।
এর আগে, শনিবার জামালগঞ্জের সাচনা বাজারে এই ঘটনার পরপরই কামরুজ্জামান কামরুল সন্ধ্যায় একটি ভিডিও বার্তায় চেকটি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে নূর কাসেম বলেন, "সমাবেশ দেখতে গিয়েছিলাম। মানুষ দেখে আবেগে চলে গিয়ে চেকটা দিয়েছি। আমি ওনাকে (কামরুল) ভালোবাসি, উনি গরিবের জন্য কাজ করেন, তাই মনের আবেগে দিয়েছি। আমার অত টাকা নেই। এখন যদি কেউ বলে টাকা দিতে হবে, শ্রীপুর বাজারে আমার একটা ভিটা আছে, ইট বিক্রি করে দেব। আমি খারাপ মানুষ নই, কাজ করি খাই, ধান্দাবাজ নই। শিক্ষিত নই, রাজনীতি বুঝি না। মনের টানে দিয়েছি।"
সমাবেশের প্রধান অতিথি কামরুজ্জামান কামরুল জানান, ওই কর্মী ভালোবাসা থেকে চেকটি দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করবেন না। তিনি এটিকে মানুষের ভালোবাসা হিসেবে দেখছেন, যা তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, "এটি দলের প্রতি, আমার প্রতি একজন সাধারণ কর্মীর ভালোবাসা। আমি এই ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করি। তবে আমি অর্থের জন্য রাজনীতি করি না, মানুষের ভালোবাসাই আমার আসল শক্তি।"
