বাবা-মেয়ের একসঙ্গে এইচএসসি জয়, ভালো ফল করে তাক লাগালেন বাবা।
শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫.
নাটোরের লালপুরে এবার এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন বাবা ও মেয়ে। অবাক করা বিষয় হলো, ফলাফলের দিক দিয়ে মেয়েকে ছাপিয়ে এগিয়ে গেছেন বাবা আব্দুল হান্নান। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৪.৩৩ অর্জন করেছেন, যেখানে তাঁর মেয়ে হালিমা খাতুনের ফল জিপিএ-৩.৭১।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বাবা-মেয়ের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই অসাধারণ সাফল্যে তারা এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রমতে, গোপালপুর পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান (মৃত লাল মিয়ার ছেলে) ১৯৯৮ সালে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এরপর জীবিকার তাগিদে তিনি সংসার জীবনে মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তাঁর পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ কখনও কমেনি।
দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর, ২০২৩ সালে রুইগাড়ি হাই স্কুল থেকে হান্নান আবারও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পাস করেন। সে সময় তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গেই পরীক্ষায় বসেছিলেন, যা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বেশ প্রশংসিত হয়। এর ধারাবাহিকতায়, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি বাঘা কাকড়ামারি কলেজ থেকে এবং তাঁর মেয়ে হালিমা খাতুন গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষা দেন। ফলস্বরূপ, দুজনেই সাফল্যের সঙ্গে পাস করেন।
মেয়ে হালিমা খাতুন এই প্রসঙ্গে বলেন, "পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও বাবার পড়াশোনার যে প্রবল ইচ্ছা, তা আমাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, একসঙ্গে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া।"
আব্দুল হান্নান জানান, "দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় আমি লেখাপড়া শেষ করতে পারিনি। মেয়েকে পড়াতে গিয়েই আমার ভেতরে আবার পড়ার আগ্রহ জন্মায়। আমি এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছি যে, বয়স কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়; শেখার ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বয়সেই তা সম্ভব।"
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান এই ঘটনাকে "সত্যিই অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, বাবা-মেয়ের একসঙ্গে এইচএসসি পাস করার এই ঘটনা সমাজে শিক্ষার প্রতি একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সহায়তা করবে।
