জাবিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ঘাস কাটার ব্লেড মাথায় ঢুকে যুবক আহত
সাভার (জাবি প্রতিনিধি): জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ঘাস কাটার মেশিনের ব্লেড ভেঙে ছিটকে এসে মাথায় ঢুকে গুরুতর আহত হয়েছেন সুমন মিয়া (২৬) নামের এক যুবক। তিনি সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা এবং জাবি স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্টলে কাঁকড়া ফ্রাই বিক্রি করতেন। বর্তমানে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম অবস্থায় সুমনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রথমে এনাম মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। তবে সেখানকার চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও অনুমতি বিতর্ক
জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর থেকে জাবি স্পোর্টস ক্লাবের তত্ত্বাবধানে এই নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল, শনিবার ছিল যার শেষ দিন। টুর্নামেন্টের সভাপতি আরশাদ হাবিব বিশালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু একটি স্টল বরাদ্দ নেন, যেখানে সুমন মিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হোটেল কর্মচারী কাজ করছিলেন। অন্যদিকে, ক্লাবের সভাপতির অনুরোধে শারীরিক শিক্ষা অফিসের কর্মচারী আবুল হোসেন অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঠ প্রস্তুতির কাজে সহযোগিতা করছিলেন।
কর্মচারী আবুল হোসেন জানান, খেলার শেষ দিন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে এসে মাঠ প্রস্তুতির কাজ শেষ করার পর হাতে সময় থাকায় তিনি ঘাস কাটা শুরু করেন। ঘাস কাটার সময় মাটিতে থাকা একটি ইটের সঙ্গে মেশিনের ব্লেডটির সজোরে ধাক্কা লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই ব্লেডটি ভেঙে যায় এবং দ্রুত ছিটকে এসে পাশের স্টলে থাকা সুমন মিয়ার মাথায় বিদ্ধ হয়।
সুমন মিয়ার পাশের পিঠার স্টলের সাবেক শিক্ষার্থী নাদিয়া মীম বলেন, "সুমন স্টলে দাঁড়ানো অবস্থাতেই ব্লেডটি এসে মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই সে স্টলের ওপর পড়ে যায়। ভয়ে প্রথমে কেউ কাছে যায়নি। পরে বিশাল এসে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।"
কর্মচারী আবুল হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, "একটু সময় ছিল বলে ঘাস কাটতে গিয়েছিলাম। মেশিনে ইট লেগে এমন বড় দুর্ঘটনা ঘটবে, তা ভাবতেই পারিনি।"
স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি আরশাদ হাবিব বিশাল দাবি করেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোটরসাইকেলে করে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি। খেলা ও স্টল পরিচালনার জন্য আমাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল। সারারাত খেলা চালানোরও অনুমতি ছিল।"
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাসরিন বেগম জানান, "আজ ছুটির দিন ছিল, তাই আমি বা আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী কেউ অফিসে উপস্থিত ছিলাম না। তবে নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট চলায় তিনি সেখানে ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরাই দ্রুত আহত ব্যক্তিকে প্রথমে এনাম মেডিকেল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। রাত ১টার দিকে তার অপারেশন শুরু হয়।" তবে মাঠে খেলা বা স্টল দেওয়ার অনুমতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এ ব্যাপারে তার বিভাগের মতামত নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, "২৩ তারিখ পর্যন্ত খেলা বা স্টল দেওয়ার কোনো আবেদন তার অফিসে জমা পড়েনি।" অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, "আয়োজকরা জানিয়েছে যে খেলার ব্যাপারে উপাচার্য মহোদয়ের অনুমতি রয়েছে।"
বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মানুযায়ী, যেকোনো অনুমতি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে দেওয়া হয়, পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রক্টর এবং খেলাধুলার বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা অফিসের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে শেষ দুটি নিয়ম মানা হয়নি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আহত সুমনের মাথায় সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন। তাঁকে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যদিও নিবিড় পরিচর্যার (আইসিইউ) পরামর্শ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
