ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'-এর তাণ্ডব: অন্ধ্রপ্রদেশে ১ নিহত, ফসল ও বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক ক্ষতি

 

প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা' পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর থেকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর, ২০২৫) রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। এটি ছিল একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, যা ব্যাপক বৃষ্টিপাত, ঝড়ো হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে উপকূলীয় এলাকায়।

মূল ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:

 * আঘাত হানার সময় ও স্থান: ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে কাকিনাড়ার কাছে মাছিলিপত্তনম এবং কলিঙ্গপত্তনম-এর মধ্য দিয়ে উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে।

 * বাতাসের গতি: স্থলভাগে আঘাতের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতি ছিল প্রায় ১০০ কিমি/ঘণ্টা, যা দমকা হাওয়ার আকারে ১১০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়।

 * প্রাণহানি: প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশে ১ জন নিহত হয়েছেন। কোনাসীমা জেলার মাকানাগুদেম গ্রামে একটি তালগাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়লে এক বৃদ্ধা মারা যান। অন্য কয়েকটি সূত্র অনুযায়ী, মোট ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, সেগুলোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

 * ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি:

   * কৃষি: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ৩৮,০০০ হেক্টর জমিতে থাকা ফসল এবং ১.৩৮ লাখ হেক্টর বাগানের ফসল (উদ্যানপালন) নষ্ট হয়েছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। ধান ও তুলা ফসলের সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে।

   * বিদ্যুৎ: বিদ্যুৎ খাতে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে সাব-স্টেশন, ট্রান্সফরমার, খুঁটি এবং বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ₹২,২০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।

   * অন্যান্য: বহু গাছ উপড়ে গেছে, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সতর্কতা:

 * উদ্ধার ও ত্রাণ: ক্ষয়ক্ষতি কবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৭৬,০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ত্রাণ শিবির (যেমন কোনাসীমা জেলায় ৪৭১টি) স্থাপন করেছে।

 * যানবাহন বন্ধ: ঝড়ের তীব্রতার কারণে বেশ কয়েকটি জেলায় রাতভর যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। ট্রেন (প্রায় ২০টি) এবং বিমানের (৩২টি পর্যন্ত) যাত্রা বাতিল করা হয়।

 * শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ: প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ু-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 * ওডিশার পরিস্থিতি: অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানলেও পাশের রাজ্য ওডিশার ১৫টি জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। তবে ওডিশায় বড় ধরনের হতাহতের কোনো খবর নেই, যদিও বহু গাছ উপড়ে গেছে এবং কিছু এলাকায় ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে এবং সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন।

আপনি কি চান আমি অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা বা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সহায়তার বিষয়ে আরও তথ্য খুঁজে দেখি?

নবীনতর পূর্বতন