এনসিপি-ইসি প্রতীক সংঘাত: হয় শাপলা, না হয় রাজপথে লড়াই

 

শাপলা প্রতীক না পেলে রাজপথের লড়াইয়ের হুমকি এনসিপি’র; ইসি’র বিরুদ্ধে 'স্বৈরতান্ত্রিক' আচরণের অভিযোগ

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের পছন্দের 'শাপলা' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনমনীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, বিধিমালা সংশোধন করে শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলা—এই তিনটি প্রতীককে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এনসিপিকে তা বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায়, ইসির এই আচরণকে 'স্বৈরতান্ত্রিক' আখ্যা দিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে দলটি।

এর আগে, এনসিপি গত ৭ অক্টোবর আবারও শাপলা প্রতীক চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে সাতটি ভিন্ন নমুনা জমা দিয়েছিল, কিন্তু কমিশন তাতেও কোনো সাড়া দেয়নি।

শাপলা ছাড়া দ্বিতীয় বিকল্প নেই: এনসিপি

এনসিপি-এর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন কালবেলাকে বলেন, "শাপলা ছাড়া আপাতত আমাদের দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।" তিনি ইসির কাছ থেকে এই প্রতীক না দেওয়ার পেছনের আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন।

শারমিন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো আইনি ব্যাখ্যা ছাড়া ইসি গেজেট প্রকাশ করে, তবে তা হবে 'স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ'। তিনি বর্তমান ইসির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "এ ধরনের আচরণ ও ফ্যাসিস্ট কাঠামো রেখে এই ইসির অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব না। এই ইসি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো পরের কথা, কোনোভাবেই ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য পারঙ্গম নয়।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "দ্বিদলীয় ভাগাভাগির মাধ্যমে ইসি তার সব নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।"

শাপলা আদায় করে নেওয়ার ঘোষণা

গত রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ শাপলা প্রতীকের দাবিতে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শাপলাকে অবশ্যই অর্জন করবেন।

অন্যদিকে, গতকাল টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে সংগঠনের জেলা সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মন্তব্য করেন, তারা শাপলা প্রতীক নিয়েই আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

সারজিস আলম বলেন, "আমরা মনে করি, শাপলা না দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। যেহেতু আইনগত বাধা নেই। আমাদের জায়গা থেকে শাপলা আদায় করে নেব।"

'স্বেচ্ছাচারী' আচরণের বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াই

প্রাপ্য প্রতীক না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে সারজিস আলম আরও বলেন, "যখন একটা জিনিস আমার প্রাপ্য, এনসিপির প্রাপ্য, যখন সেটা দেওয়া হবে না—অবশ্যই স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। এনসিপির যদি প্রয়োজন হয়, এনসিপি এই লড়াইটা রাজনৈতিকভাবে রাজপথে করবে।" তিনি যোগ করেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলার এনসিপির নেতারা রাজপথে নেমে এই অধিকারের জন্য লড়াই করবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানের 'স্বেচ্ছাচারী' আচরণ এনসিপি এবং তরুণ প্রজন্ম মেনে নেবে না। সারজিস আলমের বক্তব্য, "কোনো আইনি বাধা না থাকা সত্ত্বেও যে প্রতীক শাপলা আমরা চেয়েছিলাম, সেটি দিতে নানান টালবাহানা করা হচ্ছে। বিভিন্ন অযৌক্তিক কারণ দেখানো হচ্ছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা আমাদের জায়গা থেকে অবশ্যই প্রতীক হিসেবে শাপলাকে এনসিপির জন্য চাই এবং শাপলা প্রতীক নিয়েই আগামী সংসদ নির্বাচনে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে।"

এর আগে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন কমিশনের সমালোচনা করে বলেছিলেন, "কোনো আইনি ব্যাখ্যা না দিয়ে নিজের মতো আমাদের ওপর প্রতীক চাপিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন, সেটা তাদের স্বেচ্ছাচারী আচরণ। কমিশন কোনো সংস্থা বা রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত কি না, সেই বিষয়গুলো এখন খুঁজে দেখার সময় এসেছে।"

নবীনতর পূর্বতন