ঢাকা: পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে হঠাৎ করেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই মসলার দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে যে পেঁয়াজ কিছুদিন আগেও ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ১৩০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এত দ্রুত পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে বাজার তদারকির অভাব এবং একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজি। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আমদানি ছাড়াই দেশীয় পেঁয়াজে বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো মৌসুম শেষ হয়ে আসায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি। তারা বলছেন, ক্রেতাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে এবং এর ফলে দাম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি
পেঁয়াজ হলো সেই সীমিত সংখ্যক পণ্যের মধ্যে একটি, যা প্রায় সারাবছর আমদানি ছাড়াই ভোক্তাদের সাধ্যের মধ্যে ছিল। রান্নার এই অপরিহার্য মসলাটি বছরজুড়েই মূলত ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরের মধ্যে ওঠানামা করেছে। তবে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে প্রচুর পরিমাণে মজুত চোখে পড়লেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে কিছুটা টান পড়ায় দাম এক লাফে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
আমদানিতে বড় পতন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আমদানির বড় পতনও একটি কারণ। চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টন। অথচ, এর আগের অর্থবছর (২০২৪-২৫) একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল বিশাল – ২ লাখ ৪৬ হাজার টন। আমদানিতে এই বিশাল ফারাকও বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
